সাজেকে পোড়া ক্ষতের মাঝেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা
জীতেন বড়ুয়া,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ।
পোড়া দুর্গন্ধ সাজেক জুড়ে ।আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেলেও সাজেকে ঢুকতেই অনুভূত হচ্ছিল সেই উত্তাপ।পুরো সাজেক জুড়ে পুড়ে ছাই হওয়া মালামালের গন্ধ । পোড়া ক্ষতের মাঝেই সহায়-সম্বল হারিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা ।সাজেকের অগ্নিকান্ডে রিসোর্ট মালিকদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় লুসাই ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী। আগুনে পুড়েছে তাদের ৩৫ বসত বাড়ি।ঘুরে দাঁড়াতে সহযোগিতা চান এসব নিঃস্ব মানুষ। ফায়ার সার্ভিস বলছে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা না থাকায় আগুনে ক্ষতির পরিমান বেড়েছে। এ অগ্নিকান্ডে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ।
সাজেকের অগ্নিকান্ডের পর রুইলুই পাড়ার এই স্টোন গার্ডেনে রাত কাটিয়েছে স্থানীয় লুসাই ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষ। আগুনে লুসাই জনগোষ্ঠীর ১৬ টি ও স্থানীয় ত্রিপুরাদের ১৯ টি বসতঘর পুড়ে যায়। ঘরের সামান্য কিছু আসাবপত্র ও লেপ তোষক রক্ষা করতে পারলেও আগুনে ঘর বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সাজেকের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে রির্সোট,রেস্টুরেন্ট ও দোকানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয়রা। আগুনে পুড়ে সহায় সম্বল হারানো মানুষ গুলো তাদের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিতায়। এই অবস্থায় নতুন করে বাচঁতে ও নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে ক্ষতিগ্রস্তরা ।
এদিকে সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান বাতাসের কারণে আগুন দ্রæত ছড়িয়ে পরায় কিছুই রক্ষা করতে পারেনি অনেকে।সাজেক, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অনিত্য ত্রিপুরা, সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থানীয় মানুষের জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চেয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস,রাংগামাটি’র সহকারী পরিচালক, পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দি জানান, রির্সোটগুলো কাঠের তৈরি হওয়ায় বাতাসে তীব্রতায় আগুন দ্রæত ছড়িয়ে পরেছে। এছাড়া রির্সোটগুলোতে অগ্নিনির্বাপনের সরঞ্জাম না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণা দেব বর্মন জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ৩৫টি রিসোর্ট, ৩৫টি বসতবাড়ি, দোকান ১২টি, রেস্টুরেন্ট ৭টি। তিন জানান, এটি প্রাথমিক পরিসংখ্যান। এর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
ইতিমধ্যেই আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিজিবি,খাগড়াছড়ি সের্ক্ট এর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ আঃ মোস্তাকিম,সেনাবাহিনীর বাঘাইছড়ি জোন অধিনায়ক কর্ণেল খাইরুল আমিন, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আক্তার ও দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মামুনুর রশীদ।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন কালে নিরাপত্তা বাহিনীর উধবর্ন কর্মকর্তারা জানান, অপরিকল্পিত রিসোটর্ নির্মাণ ও অগ্নি নিবাপনের ব্যবস্থা না থাকাকেই এ দূর্ঘটনা মূল কারন হতে পারে ।এ ছাড়া এ অগ্নিকান্ডে কোন ধরনের নাশকতা হয়নি বলে জানান বিজিবি,খাগড়াছড়ি সের্ক্ট এর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ আঃ মোস্তাকিম ।
সাজেকের অগ্নিকানে আগুন লাগার ঘটনা ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
রাংগামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক, মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ জানান,সাজেকের অগ্নিকান্ডে ৯৮ টি প্রতিষ্টান ভষ্মিভুত হয়েছে । এর মধ্যে কটেজ ৩৫টি, বসত বাড়ী ৩৫ টি, রেষ্টেুরেন্ট-৯ টি ও বিভিন্ন দোকান ২০ টি । সাজেকের অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫০ কোটি টাকা । তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনবাসনেরও আশ্বাস দেন ।