আসছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব “সৈবাবি”
জীতেন বড়–য়া,খাগড়াছড়ি।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব “সৈবাবি”-কে সামনে রেখে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে কোমর তাঁত রিনাই-রিসা বাননোর ব্যস্ত সময় পার করছে পাহাড়ি নারীরা। প্রতিটি পাহাড়ি পল্লীতেই চলছে কোমড় তাঁতের সাহায্যে কাপড় বুননের কাজ। কোমর তাঁতে পিনন ও থামি তৈরি করে স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে থাকেন তারা। পর্যটকদের কাছেও পাহাড়িদের তৈরী এসব পোষাক বেশ জনপ্রিয়। এমনিতে সারা বছরই কাপড় বুনে প্রতি মাসে এক জন নারী পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে। এতে তারা বাড়তি যে অর্থ পায় সেটি দিয়ে চলে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খরচ।তবে বৈসাবি উৎসব আসলে তার চাহিদা বাড়ে আরো কয়েকগুন।
এখন প্রতিটি পাহাড়ি পল্লীতে দেখা যাচ্ছে পাহাড়ী নারীরা কঠোার পরিশ্রম করছে ।গৃহস্থলি কাজ শেষ করে বাড়তিআয়ের আশায় কোমড় তাঁতের মাধ্যমে পিনন ,খাদী (রিনাই-রিসা) তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছে ।এমনিতেই পাহাড়ি নারীরা অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই পরিশ্রমী।তাদের জীবন যুদ্ধে যেনো কেউ হার মানাতে পারেন না। জুম চাষ ছাড়াও পাহাড়ি নারীরা পরিবারের বাড়তি উপার্জনের জন্য বানিয়ে থাকেন কোমড় তাঁত এর রিনাই-রিসা।কোমর তাঁতে আধুনিক প্রযুক্তির বদলে এখনও কাপড় বোনার জন্য পাহাড়ি নারীরা বাঁশ ও কাঠের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকেন।একসময় পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত তুলা থেকে চরকার সাহায্যে সুতা তৈরি করে পিনন ও থামির কাজ করা হতো। কিন্তু এখন পাহাড়ি এলাকায় তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং তুলা থেকে সনাতনি পদ্ধতিতে সুতা তৈরি সময় সাপেক্ষ হওয়ায় বাজার থেকে সুতা কিনেই কাপড় বুনতে হচ্ছে।গৃহস্থালির কাজ আর জুম চাষের ফাঁকে কোমর তাঁতে পিনন ও থামি তৈরি করে স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে থাকেন তারা। তবে এই থামির চাহিদা পুরো বছর থাকলেও বৈসাবি আসলে চাহিদা বাড়ে অনেকগুণ বেশী। ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাই বৈসুতে এই পোশাক পড়ে। তাই সবাই রিনাই-রিসা কিনতে ব্যস্ত থাকেন এই সময়টাতে। পুরো বছরের তোলনায় দামও বেশি থাকে বৈসুতে।
রিনাই ও রিসা বুননকারী সুচরিতা ত্রিপুরা ও রুচিতা ত্রিপুরা জানান,তারা সংসারের বাড়তি খরচ যোগাতে সারা বছরই কোমড় তাঁতে পিনন খাদী তৈরী কওে থাকেন । বৈসাবি উপলক্ষে এর চাহিদা বেশী থাকায় গত ২ মাস ধওে একটু বেশী পরিশ্রম করতে হচ্ছে ।এ সময় বাড়তি যে অর্থ পাওয়া যায় তা নিয়ে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দের সাথে বৈসাবি পালন করে থাকি ।
এদিকে নারী উদ্যোক্তা, চামেলী ত্রিপুরা জানান বৈসাবি ছাড়াও বিয়ে ও বিভিন্ন উৎসব-পাবনে রিনাই-রিসা’র চাহিদা বেড়ে যায়।কিন্তু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ার কারনে নিজেরা টাকা দিয়ে সুতা কিনতে পারেননা নারীরা। অন্যের কাছ থেকে সুতা এনে কাপড় বানিয়ে নিদিষ্ট একটি পারিশ্রমিক পান মাত্র। তাদের জন্য নেই কোনো ব্যাংক লোনও। সরকারি যোগিতা পেলে রিনাই-রিসা তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করে আরো অনেক দুর এগিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা করছেন পাহাড়ি এ নারী উদ্যোক্তা ।
পাহাড়ি নারীদের সহযোগিতার আশ^াস দিয়ে খাগড়াছড়ি মহিলা অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক, সুস্মিতা খীসা,জানান ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ আছে। তারা দলবদ্ধ হয়ে আসলে তাদের ঋণ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ আছে। এছাড়া তাদের জন্য মহিলা অধিদপ্তরে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থাও আছে। তিনি বলেন ডিজাইন ভেদে এক একটি রিনাই-রিসা ৩ শত টাকা থেকে ১০ হাজারের বেশী দামে বিক্রি করা হয়ে থাকে ।