অনলাইন সংস্করণ

এ সম্পর্কিত আরও খবর

ইসলামপুর সাবরেজিস্টার অফিসে আনোয়ার যেন এক অদৃশ্য জিন

উপজেলা প্রতিনিধি, ইসলামপুর, জামালপুর

ইসলামপুর উপজেলা সাবরেজিস্টার অফিসের মোহরার আনোয়ার হোসেন যেন এক অদৃশ্য জিন, যার হাতে রয়েছে আলাদিনের চেরাগ। তার ক্ষমতা জেলার সর্বস্তরে বিস্তৃত। সাবরেজিস্টার অফিসের মোহরার আনোয়ারের দাপটে অতিষ্ঠ কর্মরত সকল কর্মচারী, নকলনবিশ ও দলিল লেখকরা। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো সেবা মিলে না আনোয়ারের তৈরি করা নিয়মের কারণে। তিনি একসময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, বর্তমানে বিএনপির সাথে ওঠাবসা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী বলেন, “আনোয়ার হোসেন আলুর মতো সবখানেই ফিট।” ৫ আগস্টের আগে তিনি সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল ও এপিএস মনিরুলের পরিচয় দিয়ে একঘেয়ে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার নাম ব্যবহার করে জেলা সাবরেজিস্টার অফিসসহ ইসলামপুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

তিনি কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি পরিচয়ে নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আনোয়ার কখনোই সরকারি নির্দেশনা মেনে অফিসে আসেন না, ইচ্ছেমতো আসেন এবং চলে যান। এসব বিষয়ে কেউ টু শব্দ করার সাহস পায় না। কেউ কিছু বললে তিনি নিজেকে বিএনপি পরিবারের অংশ বলে দাবি করেন এবং বলেন, তার সহোদর ভাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চাকরি করেন, তাই কেউ তার কিছুই করতে পারবে না। সাংবাদিক ম্যানেজ করা থেকে দলীয় নেতাকর্মী কোথায় কাকে সেটিং-ফিটিং করতে হবে, সবই তার নখদর্পণে। নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন, যার ছবি রয়েছে অগ্রযাত্রার হাতে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে বা অন্য কোনোভাবে তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। তারা বাংলাদেশ বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে বা কোনো প্রকারে সহায়তা করতে পারবেন না। অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনোয়ারের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।