পদ্মা পারে সূর্যমুখী হাসি, সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা
রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল এলাকার পদ্মার চরে সূর্যমুখী ফুল মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। এতে ফাগুনকে আরো রাঙিয়ে তুলেছে। এ ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য হাতছানি দিচ্ছে প্রকৃতিকে। এরই মধ্যে সূর্যমুখীর জমির ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পদ্মার চরে দর্শনার্থী আসতে শুরু করেছে। তবে এবার দর্শনার্থীদের পদচারণায় সূর্যমুখীর ফুল ও জমির ক্ষতি না করার অনুরোধ করেছেন কৃষকরা। সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার চরে গাছে গাছে ফুটেছে সূর্যমুখী ফুল। এ ফুল দেখতে আর নিজেদের ছবি, সেলফি তুলতে নানা বয়সী দর্শনার্থী মানুষ প্রায় প্রতিদিন ভিড় করছেন। এতে জমির কিছুটা ক্ষতিও হচ্ছে। ফলে খানিকটা বিরক্ত হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।

জানা যায়, গেল বছর পদ্মার চরে ভাগ্যকুলের কৃষক কাউসার খান সূর্যমুখী চাষ করে আলোরণ সৃষ্টি করেছেন। তার সূর্যমুখীর জমি দেখতে দূরদুরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমায়। বাধ্য হয়ে সূর্যমুখী জমি ঘুরে দেখার জন্য টিকেট ব্যবস্থা করেন কৃষক কাউসার খান। আরো জানা যায়, সূর্যমুখীর ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা কেজি থেকে ৪০০ মিলি তেল পাওয়া যাবে। প্রতি জমিতে আলুর ফলনে ক্ষতি না করেও সূর্যমুখী বীজ ভালো উৎপাদন করা সম্ভব। আলুর পাশাপাশি সূর্যমুখীর চাষ করলে তেমন কোনো বার্তি খরচ হয় না। শুধু মাত্র সূর্যমুখী বীজ রোপণ করলেই আলুর পাশাপাশি সূর্যমুখী বেড়ে উঠে। এবার পদ্মার চরে সূর্যমুখী চাষ করেছেন কৃষক বিপ্লব হোসেন।
তিনি বলেন, ৮ কানি (১ কানি ১৪০ শতাংশ) জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। এবার পানি সংকটের কারণে ফুলের আকার আকৃতি ছোট হয়েছে। এতে ফলন কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা হচ্ছে। জমিতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে না পারায় ফসলের আশানুরূপ ফলন কম হবে। শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল এলাকার বাসিন্দা মো.সজিব বলেন, সূর্যমুখীর ফুল ফোটার কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন পদ্মার চরে সূর্যমুখীর সাথে ছবি তোলার জন্য আসছে। আমরাও মাঝেমধ্যে বিকালে গিয়ে ছবি তুলে থাকি, খুবই ভালো লাগে। মানুষও দূর-দূরান্ত থেকে এসে ছবি তোলে যায়।
ভাগ্যকুল ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাবিত্রী রানী সরকার বলেন, ভাগ্যকুলের পদ্মার চরে ৬ জন কৃষক সূর্যমূখীর চাষ করছেন। নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছি। এখানে বারি-৩ জাতের সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। সূর্যমূখী দেখতে শুধু রুপময় নয়, এর বীজ গুণেও অনন্য। সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যের জন্য অসাধারণ, পুষ্টিগুণে ভরা। যে কোন তেলবীজ থেকে সূর্যমুখী ফুলের বীজ শ্রেষ্ঠ। বারি-২, বারি-৩ ও প্যাসিফিক হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখীর চাষে অধিক লাভবান হওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমিতে ১ কেজি সূর্যমুখীর বীজ লাগে। ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে সূর্যমুখীর ফুল থেকে তেলবীজ সংরক্ষণ করা যায়। বিঘায় কমপক্ষে ৬-৭ মণ বীজ উৎপাদণ হয়ে থাকে। প্রতি মণ বীজ থেকে প্রায় ১৮ লিটার তেল উৎপাদণের পাশাপাশি ২০-২২ কেজি খৈ-ইল পাওয়া যায়। যা গো-খাদ্য হিসেবে খোলা বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শ্রীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহসিনা জাহান তোরণ জানান, উচ্চ ফলনশীল সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ বাড়াতে প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। এ বছর ১০ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এতে প্রদর্শনী জমি রয়েছে ২টি। সূর্যমূখী জমি দেখতে এসে কেউ যাতে অপরিপক্ক ফুল নষ্ট করতে না পারে এজন্য ফসলের নিরাপত্তায় কৃষকদের জমিতে বেড়া দিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Post Views: ১