সিরাজদিখানে পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে, যৌতুক না দেওয়ায় শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের মারধরের শিকার নববধূ।
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে যৌতুক চেয়ে না পেয়ে হালিমা আক্তার (১৯) নামে এক নববধূকে নির্যাতন করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে। রবিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের রক্ষিত পাড়া গ্রামে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই নববধূকে গুরুত্ব আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নববধূর মাতা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতেই স্বামী ফারেজ শেখসহ চাচা হাজারী শেখ, বোন তায়েবা আক্তার, ফুপু কুলসুম বেগম ও ফুপাত ভাই নিলয়দের বিবাদী করে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নববধূর মামা নিলয় অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাগ্নি হালিমা আক্তার ফারেজ নামে ওই ছেলেটার সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে গোপনে বিয়ে করে। আমরা তাদের বিয়ের বিষয়ে জানতাম না। আমার ভাগ্নিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সম্বন্ধ দেখেছিলাম। কিন্তু ফারেজ শেখ ওই বাড়ীতে গিয়ে বলে এসেছে যে আমার ভাগনিকে সে বিয়ে করেছে। এরপর আমরা আমাদের ভাগ্নির বিষয়টি নিয়ে ছেলের বাড়ীতে গেলে তারা আমাদের কাছে মোটা অংকের যৌতুক দাবী করে এবং তারা তাদের ছেলে লুকিয়ে ফেলে। পরে বাধ্য হয়ে আমার ভাগ্নীকে আমার বোনের বাড়িতে রাখি। ফারেজ বাড়ীতে এসেছে খবর পেয়ে রবিবার রাতে আমার ভাগ্নি তার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে উঠে। তখন তারা আমার ভাগনিকে তার বাবার বাড়ী থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে দিতে বলে। আমার ভাগনি তাদের যৌতুকের টাকা নিয়ে দিতে আস্বীকৃতি জানালে তারা আমার ভাগনিকে চলা দিয়ে এলোপাথারী ভাবে পিটিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম করে পাশের বাড়ীতে এনে ফেলে রেখে যায়। ওই বাড়ীর লোকজন আমাদের খবর দিলে আমরা তাকে উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করি। কয়েকবার সামাজিক ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্ত তারা কোন ভাবেই মানে না। তাই গতকাল রাতে আমার বোন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। আমার ভাগনির সাথে হওয়া ঘটনার সুষ্ঠ সমাধানসহ তাদের নির্যাতনের যথাযথ বিচার চাই।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত স্বামী ফারেজ শেখসহ চাচা হাজারী শেখ, ফুপু কুলসুম বেগম ও বোন তায়েবা আক্তারদের মুঠোফোনেএকাধিক বার যোগাযোগে চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সিরাজদিখান থানার এএসআই করিম খান জানান, হ্যা আমি সেখানে গিয়েছিলাম। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে বসবে। যেহেতু তারা বসবে সেহেতু দেখা যাক তারা সমাধান করতে পারেন কিনা। যদি না পারে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।