অনলাইন সংস্করণ

এ সম্পর্কিত আরও খবর

হাসিনা নিজেই তার দল হত্যা করেছে- ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন

হাসিনা নিজেই তার দল হত্যা করেছে- ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন


রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
শেখ হাসিনা নিজেই তার দলকে হত্যা করেছে। মাঠে এখন আওয়ামী লীগ নাই। এখন যদি নির্বাচন হয় তাহলে জনগণের একমাত্র বিকল্প হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আয়োজনে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মুন্সীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড সড়কে নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন এসব কথা বলেন। বিএনপির এই প্রবীন নেতা আরও বলেন, এখন যে সরকার চলছে সেটি কারো নির্বাচিত সরকার নয়। বর্তমানে তাঁরা জানে যদি সময় মত নির্বাচন হয়, তাঁদের কোন ভরসা নেই। এই দেশে প্রমাণিত হয়েছে। এদেশের জনগণের সবচাইতে প্রিয় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আর দ্বিতীয়তে ছিল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ এই দেশে ফ্যাসিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। সে কারণে তাদের নেত্রী পালিয়ে গিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ছাত্রজনতা ফ্যাসিস্ট সরকারকে পতন ঘটিয়ে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। যেন এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের অধিকার জনগনকে ফিরিয়ে দিতে পারে। আর জনগনের সবচেয়ে বড় অধিকার ভোটের অধিকার। তাই জনগণের প্রত্যাশা দ্রুত সম্ভব এ দেশের মানুষের ভোটের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে একটি সংসদ নির্বাচন প্রতিষ্ঠা করা। এই সরকার যথাশীঘ্র সম্ভব বিদায় নেওয়া। যদি এই সরকরার সম্মানের সাথে বিদায় নিতে পারে তাহলে জনগনও রক্ষাপাবে, মুক্তিপাবে। বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, এই সরকারের গোষ্ঠী বা এই সরকারের সমর্থিতরা নানাভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের কেউ কেউ দাবি করছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হোক। আর জনগনের দাবি হচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন দাবি করে তাদের বলতে চাই, স্থানীয় সরকারের কাজটা কি, এলাকার উন্নয়নের কাজ করা। ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করা এবং অন্যান্য কাজকর্ম করা। মেম্বার হয় কারা? যারা ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ তারা। তাদের দায়িত্ব কিন্তু জাতীয় কোন দায়িত্ব না। জাতীয় দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় সংসদের দায়িত্ব। আগে যখন জাতীয় নির্বাচন হয়েছে,তখন যারা নির্বাচন করেছেন, তাঁরা জনগণকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি ক্ষমতায় যেতে পারেন, জনগণের জন্য, দেশের জন্য কি করবেন সেটা বলেছেন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে বলেন,শেখ হাসিনা সরকারের দূর্নীতি,টাকা লুটের কারনে এ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন দাম বেড়েছিল। জনগন আশা করেছিল এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসে লাগাম ধরবে। কিন্তু সরকার পারেনি। যদি পারতো তাহলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন হতে পারতো না। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যা ঘটছে তা ঘটতনা। বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, আমরা এখনো ক্ষমতায় বসি নাই, অনেকেই মনে করে আমরা বুঝি ক্ষমতায় বসে গেছি। আওয়ামী লীগ সরকার যে অপকর্ম করেছে আমাদের অনেকে এমন অপকর্ম করতে চায়, এই ধরনের কাজ করা যাবে না সবাইকে অনুরোধ করছি। এই দেশের মানুষ যেন বলতে না পারে আওয়ামী লীগ সরকার যা করেছে আপনারাও তাই করছেন। মুন্সীগঞ্জের মানুষকে উদ্দেশ্য করে ড. মোশারফ হোসেন বলেন, মুন্সীগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি, তারেক রহমানের ঘাঁটি, বেগম খালেদা জিয়ার ঘাটি।

এটি মুন্সীগঞ্জের মানুষ প্রমাণ করেছে সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করে। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ,শহিদুল ইসলাম মৃধা, আবদুল বাতেন, সৈয়দ সিদ্দিক উল্লাহ, আমিরুল হোসেনসহ যুবদল,ছাত্রসহ দলটির অঙ্গসংগঠনের শতশত নেতা-কর্মীরা। সভাপতির বক্তব্যে মিজানুর রহমান সিনহা বলেন, আমি তারেক রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে বলতে চাই, জোর দিয়ে বলতে চাই। মুন্সীগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসন রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনই ধানের শীষকে জয়যুক্ত করে উপহার দেব। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা ও পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবেলার দাবিতে সমাবেশটি আয়োজন করা হয়।