খাগড়াছড়িতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রেজিষ্ট্রি বিহীন ৩ হাজার চাঁদেরগাড়ী
জীতেন বড়ুয়া,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ।
নিলামে কেনা অকেজো ও ফিটনেস বিহীন পরিবহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পাহাড়ি সড়কে। অদক্ষ চালকের বেপরোয়া গতির কারণে বাংলার ভূ-স্বর্গখ্যাত সাজেকের পথে প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।এদেও নেই লাইসেন্স নেই রোড পারমিট ও ফিটনেন্স নেই।এ ছাড়া তো রয়েছে অদক্ষচালক। গত এক মাসে চাঁদের গাড়ি দুর্গটনায় পর্যটকসহ অন্তত ৫ জন নিহত ও হয়েছে ৫০ এর অধিক।তারপরও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ও আভ্যন্তরীন সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ৩ হাজার চাঁদের গাড়ী। তা ছাড়া সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে স্থানীয় পরিবহন সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ভাড়া গুণতে হচ্ছে পর্যটকদের। এত অনিয়ম হলেও দেখার যেন কেউ নেই।
বাংলার ভূ-স্বর্গ খ্যাত সাজেক ভ্যালীতে যাওয়া আসার সড়ক যোগাযোগ খাগড়াছড়ি হয়ে। এতে করে সিন্ডিকেটের খপ্পরে জিম্মি সাধারণ পর্যটকরা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিলামে কেনা অকেজো, ফিটনেস বিহীন ও স্থানীয় ভাবে তৈরী গাড়িই পর্যটকদের একমাত্র মাধ্যম সাজেকসহ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াতের।
এদিকে খাগড়াছড়িতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের প্রিয় বাহন চাঁদেরগাড়ী। গাড়ীর নাট-বল্টু নেই। গাড়ীর যন্ত্রপাতি নড়ে বড়ে। তাই রশি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়কে অনেক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সড়ক সংকীর্ণ হলেও পর্যটকবাহী পরিবহনের চালকদের অসচেতনতা ও বেপরোয়া গতির কারণে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ফিটনেস বিহীন গাড়ি পাহাড়ে চলতে গিয়ে প্রায় হচ্ছে অকেজো। এতে করে পর্যটকরা পড়েন দুর্ভোগে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে গত ১ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
সচেতন মহল,পর্যটক ও সাধারনযাত্রীরা জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাঁদের গাড়ী গুলোকে নিয়ন্ত্রনে আনার দাবী জানিয়েছেন।
অপরদিকে প্রায় ৬০/৭০ বছর ধরে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে ৩ হাজার চাঁদেরগাড়ী। মূলত: চন্দ্র যানের মতো দুর্গম পাহাড়ে চলাচল করতে সক্ষম বলে এর নাম চাঁদেও গাড়ী বলে পরিচিতি লাভ করেছে। ছাদ খোলা হওয়ায় পর্যটকদের কাছেও এ যানটি জনপ্রিয়। কিন্তু ফিটনেন্স বিহীন ও অদক্ষ চালকের কারণে প্রতিনিয়িত ঘটছে দূর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে পর্যটকসহ আভ্যন্তরীরন সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে চাঁদের গাড়ী চালকেদের দাবী তাদের সব কিছু ঠিক আছে । এ নিয়ে চাঁদের গাড়ীর মালিক ও মোটর যান কর্মকর্তাদের রয়েছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। বিআরটিএ, খাগড়াছড়ি’র উপ সহকারী পরিচালক মো: কাউসার আলম জানান,চাঁদের গাড়ী গুলো দেশীয় ভাবে তৈরী হওয়ার কারণে বিআরটিএ-এর কোন অনুমোদন নাই। সে কারণে রেজিষ্ট্রিশন ও ফিটনেন্স দেওয়ারও সুযোগ নাই।কারিগরি সনদ বিহীন ক্রটিপূর্ণ গাড়ী চালকরাও অদক্ষ হওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
অপর দিকে চাঁদের গাড়ীর মালিকদের সংগঠন খাগড়াছড়ি জীপ মালিক সমিতি সভাপতি,আব্দুল আজিম, জানান তাদের সব কিছুই রয়েছে। তবে এ বিষয়ে যারা ব্যবস্থা নিবেন তারা কথা বলতে রাজিনা।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন সমিতি ভুক্ত তিন হাজার চাঁদের গাড়ী রয়েছে ।এ যানবাহন গুলো চলাচলে পর্যটকসহ সকল নাগরিকের জান মালের নিরাপত্ত নিশ্চিত এর দাবী সচেতন মহলের।