উপজেলা প্রতিনিধি, ইসলামপুর, জামালপুর
জামালপুরের ইসলামপুরে ধর্ষণ মামলার বাদীর বাড়িতে অতর্কিত হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জন জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন, ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ভাটিপাড়া এলাকার মৃত আঃ মোমেনের ছেলে, ইসলামপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ আঃ মালেক (৭০), তার ছেলে আল-আমিন (৩৫), মাহমুদুল হাসান (২৮) এবং মেয়ে মাসুদা আক্তার (৩২)।
হাসপাতাল ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি ওই এলাকার মাহমুদুল হাসানের ২০ বছর বয়সী বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোনকে কে বা কারা অপহরণ করে। পরদিন তার বাবা আঃ মালেক ইসলামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
খোঁজ পেয়ে পার্শ্ববর্তী মেলান্দহ উপজেলার মেলান্দহ বাজারের শাপলা মার্কেট এলাকা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হলে, সে ইশারা-ইঙ্গিতে ধর্ষণের ইঙ্গিত দেয়। ডাক্তারি পরীক্ষায় বিষয়টির সত্যতা প্রমাণিত হলে, ১৭ ফেব্রুয়ারি মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(১)/৩০ ধারায় অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরে তদন্তে পুলিশ ১৯ ফেব্রুয়ারি আবুল কালামের ছেলে মোঃ সবুজ (২১) এবং ১১ জুন আব্দুল গফুরের ছেলে মুজাহিদুল (২৮)-কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে।
২৫ জুন, জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে মুজাহিদুল ও মোঃ সবুজের পরিবারের সদস্যরা বাদী মাহমুদুল হাসানের বাড়ির গেট ভেঙে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৫ জনকে আহত করে ও ঘরের আসবাবপত্র লুটপাট করে। এতে মাহমুদুলের স্ত্রী প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হলেও, বাকিরা ইসলামপুর থেকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরদিন মোঃ আতিকুল্লাহ বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। নাম উল্লেখিতদের মধ্যে রয়েছেন: ইলিয়াস, মোঃ সজিব, মোঃ মোখলেছুর রহমান, মোঃ আবু সামাদ, মোঃ আঃ মোতালেব, মোঃ হাফিজুর, মোঃ রমজান, মোঃ কালু, মোছাঃ কমলা বেগম, মোছাঃ বানেছা বেগম, মোছাঃ খাদিজা বেগম, মোঃ মোস্তফা, আবু কালাম, মোঃ শাহীন, মোছাঃ শাপলা, কবিতা, ফাহিমা, ফুলেছা বেগম ও মর্জিনা বেগম।
২৬ জুন কমলা বেগম, আবু সামাদ ও খাদিজা খাতুনকে গ্রেফতার করা হলেও, বাকি আসামিরা এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।
এ বিষয়ে ধর্ষণ মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমার বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোনকে অপহরণ করে প্রতিবেশী মোতালেবের ঘরে রেখে গণধর্ষণ করা হয়। পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করলেও আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। আমি ডিবি ও র্যাবের ছায়া তদন্ত দাবি করছি।”
তিনি আরও বলেন, “জামিন না হওয়ায় তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
অন্যদিকে মোঃ আতিকুল্লাহ বলেন, “আমাদের বাড়িতে হামলা করে ৫ জনকে আহত করে, অর্থ লুটপাট করে এবং বিভিন্ন স্থানে বলে বেড়াচ্ছে যে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেবে। এমনকি নিজেরাই নিজেদের ঘর ভেঙে আমাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানগঞ্জ থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে। মামলা না তুললে খুনের হুমকিও দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই অরাজকতার শেষ কোথায়? ধর্ষণের বিচার চাওয়া কি আমাদের অপরাধ? প্রশাসনের কাছে অনুরোধ—দয়া করে আমাদের রক্ষা করুন। এই মুহূর্তে প্রশাসন ছাড়া আমাদের পাশে কেউ নেই।”
বিবাদীদের বারবার ফোন করেও তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আসম আতিকুর রহমান জানান, “ঘটনার পরেই আমরা অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছি। অন্যান্য আসামিদের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।”