গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ৪
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ চারজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের মনাইরকান্দি গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে লিটন (৫২), তার স্ত্রী বেবি বেগম (৪০), তার দুই ছেলে হাসান (২৫) ও সাগর (১৭)।
হামলায় আহত লিটন বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী মৃত আমির আলীর ছেলে ইব্রাহিমের পরিবারের সাথে আমাদের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনায় ইব্রাহিমের পরিবারের সংশ্লিষ্টতা ছিল, আমরা সেই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ইব্রাহিম,তার মেয়ে জামাই শুভ, দ্বীন ইসলাম-সহ ২০/২৫ জন আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের হাতে চাপাতি, ছুরি এবং লোহার পাইপ ছিল। তারা প্রথমে আমার ঘরে ঢুকে পঞ্চাশ ইঞ্চি একটি টিভি ভাঙচুর করে ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আমি এঘটনার প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে মারধর শুরু করে। এ সময় আমার স্ত্রী এবং দুই ছেলে এগিয়ে আসলে তাদেরও বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে হয়। আমাদের আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমার স্ত্রী ও বড় ছেলেকে হাসানকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। তাদের দুজনেরই হাত ভেঙে গেছে।আমি ও আমার ছোট ছেলে সাগর এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি’।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা.সাদ করিম বলেন, এই ঘটনায় চারজন রোগী আমাদের হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে এক নারী-সহ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দুজনেরই হাত ভেঙে গেছে এবং গায়ের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অপর দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে’।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইব্রাহিমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে’।